গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদ’

গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদ’: হাঙ্গেরি ও ভিয়েতনামের সম্মতি, আমন্ত্রণ পেয়েছে ভারতও

গাজার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটির পুনর্গঠনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে যোগদানের বিষয়ে বিশ্বনেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, হাঙ্গেরি ও ভিয়েতনাম এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সম্মতি জানিয়েছে। এছাড়া ভারত ও অস্ট্রেলিয়াসহ আরও অন্তত আটটি দেশ এই পর্ষদে যোগদানের আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।

শান্তি পর্ষদের খসড়া সনদ অনুযায়ী, এই পর্ষদে স্থায়ী সদস্য পদ পেতে আগ্রহী দেশগুলোকে ১০০ কোটি ডলার অনুদান দিতে হবে। সংগৃহীত এই বিশাল তহবিল মূলত গাজার পুনর্গঠন কাজে ব্যয় করা হবে। তবে তিন বছর মেয়াদী অস্থায়ী সদস্যদের জন্য কোনো আর্থিক অনুদান দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ইতিমধ্যেই এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজার্তো এক রেডিও সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শান্তি প্রক্রিয়ায় হাঙ্গেরি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। অন্যদিকে, ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান তো লামও ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকেও আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারতের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস জানিয়েছেন, তাঁরা প্রস্তাবটি বিস্তারিতভাবে বোঝার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এছাড়া জর্ডান, গ্রিস, সাইপ্রাস, পাকিস্তান, কানাডা, তুরস্ক এবং মিসরসহ আরও বেশ কিছু দেশ আমন্ত্রণ পেয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের সময় শান্তি পর্ষদের সদস্যদের আনুষ্ঠানিক তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে।

এই পর্ষদের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি কমিটি গঠন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং দ্রুততম সময়ে পুনর্গঠন কাজ শুরু করা। ট্রাম্প এই পর্ষদকে বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসনে ‘একটি সাহসী নতুন পথচলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই শান্তি পর্ষদ ভবিষ্যতে জাতিসংঘের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে। গাজা সংকটে নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়া এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পর্ষদ গঠন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

এদিকে, এই পর্ষদ গঠন নিয়ে দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় ছাড়াই এই পর্ষদের ‘এক্সিকিউটিভ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে, যা তাদের জাতীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

উল্লেখ্য, এই এক্সিকিউটিভ কমিটিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন। এছাড়া হামাসের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা তুরস্ককেও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে তারা হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চলুন