অপু বিশ্বাস-এর রহস্যময় পোস্ট: ‘ফিতা কাটা নায়িকা’ তকমা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

শুটিং সেটে ফিরেই অপু বিশ্বাসের রহস্যময় পোস্ট: ‘ফিতা কাটা নায়িকা’ তকমা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

ঢালিউডের জনপ্রিয় ও আলোচিত অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস দীর্ঘদিন পর পুনরায় সিনেমার সেটে ফিরেছেন। বিরতি কাটিয়ে জোড়া চলচ্চিত্রের শুটিং নিয়ে তাঁর ব্যস্ত সময় কাটলেও, সাম্প্রতিক এক ফেসবুক স্টোরির মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন এক আলোচনার ঝড়। “ফিতা কাটা নায়িকা” সংক্রান্ত এই মন্তব্যটিকে সাধারণ ভক্তরা নিছক রসিকতা হিসেবে দেখলেও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকের দাবি, এটি পরোক্ষভাবে তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীকে করা একটি তীক্ষ্ণ কটাক্ষ।


চলচ্চিত্রপাড়ায় গত কয়েক দিন ধরে অপুর ফেরার খবরটি ছিল বেশ ইতিবাচক। তিনি বর্তমানে দুই অভিজ্ঞ নির্মাতার হাত ধরে পর্দায় ফিরছেন। এর মধ্যে একটি হলো বন্ধন বিশ্বাসের পরিচালনায় ‘সিক্রেট’ এবং অন্যটি কামরুল হাসান ফুয়াদের পরিচালনায় ‘দুর্বার’। ‘সিক্রেট’ চলচ্চিত্রে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করছেন বর্তমান সময়ের পরিচিত মুখ আদর আজাদ। অন্যদিকে ‘দুর্বার’ সিনেমাটি দর্শকদের জন্য নতুন চমক হিসেবে আসছে, যেখানে অপু জুটি বেঁধেছেন সজলের সঙ্গে।

দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় ফেরার প্রস্তুতির জন্য এই অভিনেত্রী নিজের দৈহিক গঠনেও পরিবর্তন এনেছেন। নিয়মিত জিম এবং পরিমিত খাদ্যতালিকার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ওজন কমিয়েছেন তিনি। তাঁর এই লুকে নতুনত্ব আনার প্রচেষ্টাকে নেটিজেনরা সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। তবে কাজ শুরুর স্বস্তির আবহ কাটতে না কাটতেই অপুর করা একটি ফেসবুক পোস্ট পুরো মনোযোগ ঘুরিয়ে দিয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের দিকে।


গতকালের একটি ফেসবুক স্টোরিতে অপু বিশ্বাস বেশ হাস্যরসের সঙ্গে একটি পর্যবেক্ষণমূলক বার্তা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “ফিতা দেখি সবাই কাটে, আমি কাটি বলে, ফিতা কাটা নায়িকা।” বার্তার শেষে জুড়ে দিয়েছেন একাধিক অট্টহাসির ইমোজি। এই বার্তার প্রেক্ষাপট মূলত পুরনো কিছু বিদ্রূপের রেশ। উল্লেখ্য, অপুর যখন হাতে কাজ কম ছিল বা বিরতিতে ছিলেন, তখন তাঁকে প্রায়ই দেখা যেত নতুন পোশাকের ব্র্যান্ড, পারলার কিংবা বিউটি শপের ফিতা কাটতে এবং শোরুম উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে।

সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরোধী গ্রুপগুলো তাঁকে বিদ্রূপ করে “ফিতা কাটা নায়িকা” বা “শোরুম ওপেনিং নায়িকা” তকমা দিয়েছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় বর্তমান প্রজন্মের প্রায় সব প্রথম সারির নায়িকাই এই বাণিজ্যিক উদ্বোধনগুলোর প্রতি ঝুঁকেছেন। সম্প্রতি অপু বিশ্বাস আবারও রুপালি পর্দায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাজ শুরু করেছেন। তাঁর ব্যস্ততার ঠিক সমান্তরালে বুবলীকেও দেখা যাচ্ছে একাধিক প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে। গতকাল মঙ্গলবার রাতেই বুবলী একটি প্রতিষ্ঠানের ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বুবলীর সেই অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অপুর এই ‘ফিতা কাটা নায়িকা’ পোস্ট আসায় নেটিজেনরা দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে দেরি করেননি।


শাকিব খানকে কেন্দ্র করে অপু বিশ্বাস এবং শবনম বুবলীর মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন কোনো গোপন বিষয় নয়। বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশন ইন্টারভিউ থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে তাঁরা একে অপরের প্রতি তীর্যক মন্তব্য ছুড়ে দিয়েছেন। এক সময় এই ঝগড়া সরাসরি থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে এটি “ইঙ্গিতপূর্ণ” রূপে ধরা দিচ্ছে।

চলচ্চিত্রবোদ্ধারা মনে করেন, অপুর এই মন্তব্যটি বুবলীর উদ্দেশেই দেওয়া। তাঁদের মতে, বুবলী এখন বিভিন্ন বাণিজ্যিক উদ্বোধনে সরব থাকার কারণেই অপু পুরনো দিনের ট্রলের বদলা নিলেন ইঙ্গিতে। নেটিজেনদের একটি দল বলছেন, বুবলীর গতকালের কর্মকাণ্ডকেই টার্গেট করেছেন অপু। এর বিপরীতে বুবলীর ভক্তরা সরব হয়ে উঠেছেন। বুবলী অনুরাগী বিভিন্ন গ্রুপে অপুর এই স্ট্যাটাসকে “ঈর্ষাপরায়ণ” কাজ হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে। অনেকে মনে করেন, সিনেমার শুটিং শুরু করলেও অপু ব্যক্তিগত কলহ থেকে এখনো নিজেকে বের করে আনতে পারেননি।

মাঝখানে দীর্ঘদিন অপু এবং বুবলীকে নিজেদের চলচ্চিত্র বা সন্তানের বিষয় ছাড়া খুব একটা কথা বলতে দেখা যায়নি। সেই নিরবতা কাটিয়ে আবারও এই ‘সোশ্যাল মিডিয়া যুদ্ধ’ ফিরে আসায় চিন্তিত ঢালিউডের বড় এক অংশ। সমালোচকদের মতে, নায়িকাদের নিজেদের ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সময় কেন ব্যক্তিগত আক্রোশকে জনসম্মুখে আনছেন, তা একটি নেতিবাচক উদাহরণ তৈরি করছে।

অন্যদিকে অপু বিশ্বাস তাঁর এই মন্তব্যের কোনো ব্যাখ্যা দেননি। এমনকি কারো নামও উল্লেখ করেননি। এটি কি তিনি সামগ্রিকভাবে সব অভিনেত্রীদের উদ্দেশে বলেছেন না কি নির্দিষ্টভাবে বুবলীকেই উদ্দেশ্য করেছেন, সেই কুয়াশা জিইয়ে রেখেছেন নিজেই। তবে নেটিজেনদের কাছে স্পষ্ট যে, এটি শ্লেষপূর্ণ হাস্যরসের মাধ্যমে নিজেকে সেই পুরনো ট্রল থেকে মুক্ত করার একটি প্রয়াস।

বর্তমান শুটিং পরিস্থিতিতে ফিরলে দেখা যায়, অপু বিশ্বাস ‘সিক্রেট’ ও ‘দুর্বার’ নিয়ে খুবই আশাবাদী। অভিনয়ের দক্ষতায় ও রূপের চাকচিক্য দিয়ে তিনি পুনরায় ঢালিউড জয় করতে চান। সিনেমা দুটি সফল হলে হয়তো তিনি সমালোচকদের আরও যোগ্য জবাব দিতে পারবেন। কিন্তু তার আগেই এমন স্ট্যাটাস কেন্দ্রিক অস্থিরতা সিনেমাহল থেকে নজর সরিয়ে স্ক্রিনশটের রাজনীতিতে মানুষকে ব্যস্ত করে ফেলেছে।

সিনেমায় কাজের নিয়মিত সুযোগ পাওয়া অনেক নায়িকাই এখন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ দেখান বাড়তি আয়ের অংশ হিসেবে। অপুর মন্তব্যটির গভীরতা যেখানেই হোক না কেন, ঢালিউডের এই সময়ের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আর সামাজিক দ্বন্দ্বে এটি ঘি ঢেলে দেওয়ার মতো কাজ করেছে। বুবলী কি এই কথার পিঠে কোনো পাল্টা স্ট্যাটাস দেন না কি নিজের মৌনতা বজায় রাখেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চলুন