গভর্নরের বৈঠক : সুদহার বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থানের বাড়বে চাপ।

নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেয়ার পর নীতি সুদহার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে অর্থনীতিবিদদের সমালোচনায় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি প্রণয়ন কমিটির (এমপিসিসি) এক সদস্যের পদত্যাগের কারণে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। অর্থনীতিবিদরা গতকালের সভায় সে প্রসঙ্গও তোলেন। তারা বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়া অবশ্যম্ভাবী। এ সংকট মূল্যস্ফীতিকেও আরো উসকে দেবে। সেজন্য বর্তমান মুদ্রানীতি আপাতত অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন অর্থনীতিদরা। তারা বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। নতুন করে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক সংকটে মূল্যস্ফীতি আরো বেড়ে উঠবে। এ মুহূর্তে নীতি সুদহার কমানো হলে অর্থনীতিতে আরো বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। সেজন্য বর্তমান মুদ্রানীতি অপরিবর্তিত রাখার বিকল্প নেই। সংকট কেটে গেলে সুদহার কমানোর উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

সভা সূত্রে জানা যায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই মধ্যপ্রাচ্য সংকট দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় করণীয় বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া হয় দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের কাছে। এ সময় তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একটি কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেন, যারা সময়ে সময়ে দেশের অর্থনীতি নিয়ে বিস্তারিত হালনাগাদ তথ্য জানাবে জনগণকে।

সভায় অর্থনীতিবিদরা বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতিতে যে সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তা মোকাবেলায় যেন আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়। এ সংকট আরো ঘনীভূত হলে রিজার্ভ ও ডলারের ওপর চাপ বাড়বে। সেজন্য এখনই রিজার্ভ ধরে রাখার উপায় বের করতে হবে। প্রয়োজনে জ্বালানি আমদানির জন্য বিকল্প উৎস ও অর্থায়নের খোঁজ করতে হবে। এক্ষেত্রে বিদেশী দাতা সংস্থা থেকে ঋণ নেয়া কিংবা বাজেটের বিকল্প অর্থ সংকুলানের দিকে জোর দিতে হবে। এছাড়া বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও এখনই তা গ্রাহক পর্যায়ে চাপিয়ে দেয়া ঠিক হবে না বলেও জানান তারা।

সভা সূত্রে জানা যায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই মধ্যপ্রাচ্য সংকট দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় করণীয় বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া হয় দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের কাছে। এ সময় তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একটি কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেন, যারা সময়ে সময়ে দেশের অর্থনীতি নিয়ে বিস্তারিত হালনাগাদ তথ্য জানাবে জনগণকে।

এর আগে সভার শুরুতেই দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাকি তিন ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, মো. জাকির হোসেন চৌধুরী ও ড. মো. কবির আহাম্মদ।

সভায় অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক এবং বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ নাজমুস সাদাত খান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চলুন